নারী ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশ হলেও জনপ্রতিনিধিত্বে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এই বৈষম্য দূর করতে রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।
একই সঙ্গে রাজনীতিকে খারাপ বিষয় হিসেবে না দেখে ভালো মানুষের রাজনীতিতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ইউএন উইমেন ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল মাল্টি স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অন দ্য ডেভেলপমেন্ট অব আ জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি স্ট্র্যাটেজি ফর দ্য বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় হচ্ছে, নারী ভোটারের সংখ্যা ৪৯ দশমিক ২৭ শতাংশ হলেও নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। ভোটারের সংখ্যাগত দিক থেকে নারীরা শক্তিশালী হলেও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তা নেই বললেই চলে। এটি আমাদের বাস্তবতা।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, মূল সমস্যাটা হচ্ছে আমরা সামাজিক জীব হিসেবে রাজনীতির বাইরে থাকতে পারছি না, আবার রাজনীতিকে ইতিবাচকভাবেও দেখছি না।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তার নিজের সন্তান, বোন, মেয়ে বা নারী আত্মীয়স্বজন কাউকেই রাজনীতিতে যেতে উৎসাহিত করেন না। শুধু নারী নয়, সামগ্রিকভাবেই পরিবার থেকে ছেলে-মেয়েদের রাজনীতিতে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয় না।
রাজনীতির পরিবেশ, আর্থসামাজিক অবস্থা, সংস্কৃতি ও মানসিকতাই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, নির্বাচনী চক্রের প্রথম গ্রুপ হচ্ছে সাধারণ জনগণ। ১৮ কোটি মানুষের দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় ১৮ বছরের নিচের কিশোররাও বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করে। কিন্তু সেই কিশোর যখন বাড়িতে আসে, তার মা তাকে বলে রাজনীতির ধারে কাছেও যেও না। নারী হোক বা পুরুষ, পরিবার থেকেই রাজনীতিকে দূরে রাখার প্রবণতা রয়েছে।
নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে রাজনৈতিক দলের ভেতরে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ইনপুট থেকেই আউটপুট আসে। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নারী যদি সংখ্যায় বেশি থাকেন, তাহলে নারী প্রার্থীও বেশি আসবেন। এটাই স্বাভাবিক। পরিস্থিতিগত কারণে রাজনৈতিক দলে যদি ৫০ শতাংশ নারী কর্মী থাকতেন, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোও ৫০ শতাংশ মনোনয়ন নারীদের না দিয়ে পারত না।
তিনি আরও বলেন, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক মানসিকতা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে।